খিলগাঁওয়ে জজ মিয়া হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর খিলগাঁও থানার ত্রিমোহনী এলাকার জিরানি খাল থেকে মো. জজ মিয়া (৪৪) নামের এক ব্যক্তির ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধারের চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এই মামলায় এজাহারনামীয় প্রধান আসামি মো. আব্দুল্লাহর (৩৩) স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পর, দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে খিলগাঁও থানা পুলিশ।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা এবং রাজধানীর মেরুল বাড্ডা এলাকায় পৃথক দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এই ৫ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, নিহত জজ মিয়া গত ৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে তাঁর রামপুরার বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পূর্ববিরোধের জেরে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ওই দিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাঁকে মেরুল বাড্ডার একটি গ্যারেজে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা আব্দুল্লাহ ও তার সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে জজ মিয়ার বুক, পেট ও পিঠে উপর্যুপরি আঘাত করে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরবর্তীতে অপরাধের আলামত মুছে ফেলার উদ্দেশ্যে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে মরদেহটি খিলগাঁওয়ের ত্রিমোহনী সেতুর নিচে জিরানি খালে ফেলে দিয়ে তারা পালিয়ে যায়।
গত ৯ সেপ্টেম্বর (বুধবার) সকাল ১০টার দিকে জিরানি খালে একটি অজ্ঞাত মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা। পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করার পর প্রযুক্তির সহায়তায় আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) মিলিয়ে নিহতের নাম জজ মিয়া বলে নিশ্চিত করে। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে এবং খিলগাঁও ও রামপুরা এলাকায় সপরিবারে থাকতেন।
হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের স্ত্রী রোজিনা বাদী হয়ে খিলগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. এরশাদ আলী ঘটনার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত চালিয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে বাড্ডার বাজার গলি এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত আব্দুল্লাহকে গ্রেফতার করেন।
গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সিদ্দিক আজাদের আদালতে হাজির করা হলে আব্দুল্লাহ স্বেচ্ছায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
খিলগাঁও থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত নতুন ৫ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। এই ঘটনায় জড়িত বাকি আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
