বন্যায় চট্টগ্রামের তিন উপজেলায় জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষতি, বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসামগ্রী বিতরণ
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: সাম্প্রতিক বন্যায় চট্টগ্রামের চন্দনাইশ, বাঁশখালী ও সাতকানিয়া উপজেলার ৩৯টি ইউনিয়নে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানিতে হাজার হাজার নলকূপ ও টয়লেট অচল হয়ে পড়ায় বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে বিশুদ্ধ পানি ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যসামগ্রী বিতরণ করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।
অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে মোবাইল ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে নিরাপদ খাবার পানি সরবরাহের পাশাপাশি হাইজিন কিট, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, স্যানিটারি ন্যাপকিন, জেরিকেন ও সাবান বিতরণ করা হচ্ছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) সাতকানিয়া উপজেলার নলুয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ মরফলা গ্রামে প্রায় শতাধিক পরিবারের মাঝে এসব সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এর আগে চন্দনাইশ ও বাঁশখালীর বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকাতেও একই ধরনের সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ চন্দ্র দাশ জানান, বন্যার কারণে অনেক গভীর নলকূপ ও টয়লেট ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে বিশুদ্ধ পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে অধিদপ্তরের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও জানান, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা ১৪ জুলাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, তিন উপজেলায় মোট ৩৯টি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়েছে। এতে প্রায় ১৯ হাজার ৯৬১টি নলকূপ সম্পূর্ণ বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৫ হাজার ৬৯৪টি টয়লেট নষ্ট হয়েছে।
উপজেলাভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, সাতকানিয়ার ১৭টি ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। সেখানে ৫ হাজার ১৫টি নলকূপ সম্পূর্ণ এবং ২ হাজার ১১২টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ২ হাজার ১৫৬টি টয়লেট নষ্ট হয়েছে।
বাঁশখালীর ১৪টি ইউনিয়নে ৪ হাজার ৫২৩টি নলকূপ সম্পূর্ণ এবং ৩ হাজার ৫০৩টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ২ হাজার ৪৭২টি টয়লেট ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে চন্দনাইশে ২ হাজার ৫৭২টি নলকূপ সম্পূর্ণ, ২ হাজার ২৩৬টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত এবং ১ হাজার ৬৬টি টয়লেট নষ্ট হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা দ্রুত পুনর্বাসনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহায়তা কার্যক্রম চলমান থাকবে।
