নেপালের ইতিহাসে ৮ বিধ্বংসী প্রাকৃতিক দুর্যোগ

 

বিশেষ প্রতিবেদনঃ
হিমালয়ঘেরা দেশ নেপাল ভৌগোলিক অবস্থান ও জলবায়ুগত ঝুঁকির কারণে দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়ে আসছে। শক্তিশালী ভূমিকম্প, ভয়াবহ বন্যা, ভূমিধস ও হিমবাহ ধসের মতো দুর্যোগে দেশটির ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
নেপালের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য ও ভয়াবহ ৮টি প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো
১. ১৯৩৪ সালের বিহার-নেপাল ভূমিকম্প
১৯৩৪ সালের ১৫ জানুয়ারি নেপাল ও ভারতের বিহার অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। বিভিন্ন হিসাবে ভূমিকম্পটির মাত্রা ৭.৬ থেকে ৮.৩-এর মধ্যে ছিল। এতে নেপালে ৮ হাজার ৫০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। কাঠমান্ডু উপত্যকার বহু স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
২. ২০১৫ সালের গোর্খা ভূমিকম্প
২০১৫ সালের ২৫ এপ্রিল নেপালে ৭.৮ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে প্রায় ৯ হাজার মানুষ নিহত এবং ২২ হাজারের বেশি মানুষ আহত হন। ঐতিহাসিক স্থাপনা ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়। পরবর্তীতে শক্তিশালী পরাঘাতও অনুভূত হয়।
৩. ২০২৬ সালের লাংটাং লিরুং হিমবাহ ধস ও আকস্মিক বন্যা
২৬ আগস্ট ২০২৬ নেপাল-তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় হিমবাহ ধস ও আকস্মিক বন্যার ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে কাদা, পাথর ও পানির প্রবল স্রোতে নদী অববাহিকার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়। তবে এই ঘটনার প্রাণহানি ও নিখোঁজের সংখ্যা নিশ্চিত সূত্রে যাচাই করে প্রকাশ করা উচিত।
৪. ১৯৯৩ সালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস
১৯৯৩ সালের বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টি থেকে নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস দেখা দেয়। এতে ৪৪টি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ১ হাজার ২৫৯ জনের মৃত্যু হয়। বহু সেতু, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো ধ্বংস হয়।
৫. ১৯৮৮ সালের উদয়পুর ভূমিকম্প
১৯৮৮ সালের ২১ আগস্ট পূর্ব নেপালের উদয়পুর এলাকায় ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পে নেপাল ও ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং এক হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
৬. ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যা
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ভারী বৃষ্টিপাতে নেপালের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস দেখা দেয়। কাঠমান্ডু উপত্যকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সড়ক, সেতু ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরকারি হিসাবে ২২৪ জনের মৃত্যুর তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
৭. ২০১৭ সালের তরাই অঞ্চলের মৌসুমি বন্যা
২০১৭ সালের আগস্টে ভারী বর্ষণে নেপালের দক্ষিণাঞ্চলীয় তরাই এলাকায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। এতে অন্তত ১৬০ জনের মৃত্যু হয়। প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয় এবং প্রায় ১৭ লাখ মানুষ ক্ষতির মুখে পড়েন।
৮. ২০০৮ সালের কোশি নদীর বাঁধ ভাঙা বন্যা
২০০৮ সালের আগস্টে কোশি নদীর বাঁধ ভেঙে নেপালের সুনসারি এলাকায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। এতে প্রায় ৫৭ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এটি নেপালের অন্যতম বড় বন্যা-দুর্যোগ হিসেবে বিবেচিত হয়।
জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে ঝুঁকি
হিমালয় অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, হিমবাহ গলন, অতিবৃষ্টি এবং ভূমিধসের ঝুঁকি নেপালের দুর্যোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে পাহাড়ি ও নদী অববাহিকা অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
২০২৬ সালের ২৬ আগস্টের ঘটনাটি যেহেতু সাম্প্রতিক, প্রকাশের আগে প্রাণহানি, নিখোঁজ ও ঘটনার সুনির্দিষ্ট স্থান নির্ভরযোগ্য সূত্র দিয়ে যাচাই করে নেওয়া জরুরি। এছাড়া আপনার দেওয়া আগের লেখায় ২৭ আগস্ট ২০২৬ বুধবার” বলা হয়েছিল ২৭ আগস্ট ২০২৬ বৃহস্পতিবার, আর ২৬ আগস্ট ২০২৬ বুধবার।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *